ড্রিমিং নিমো

নানা জন নানা কারণে ফোন করেন, মেসেজ পাঠান, মেল করেন। কেউ কেউ কাজের কথা বলেন। আবার কেউ বা নেহাতই ‘হাই-হ্যালো’, ‘ভাত খেলেন?’, ‘পটি করেছেন?’ জাতীয় খেজুরে আলাপ করে থাকেন। কিন্তু ভাগ্য ভালো থাকলে এই দুইয়ের বাইরে মাঝে মাঝে কিছু কথাবার্তা হয়ে থাকে। দু-তিনদিন আগে এক ফেসবুক বন্ধুনি তেমনই একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তিনি মেসেজ করেছিলেন, সেদিন ভোরে তাঁর দেখা একটা স্বপ্নের ব্যাপারে। স্বপ্নটার প্রথম লাইন পড়েই আমি রীতিমত ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, হঠাৎ জানা গেছে নিমো (ফাইন্ডিং নিমো নয়, আমাদের শিম্পাঞ্জি নিমো) নাকি তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সন্তান। ব্যাপারটা এতগুলো লেভেলে চাপের, যে আমি এক ঢোঁক জল খেলাম। তিনি সম্ভবত ব্যাপারটা আগাম আন্দাজ করেছিলেন। তাই দ্বিতীয় লাইনে আশ্বস্ত করেছেন — ব্যাপারটার সঙ্গে আমি বা লিপি কেউই জড়িত নই। মনে মনে ভাবলাম, আমি জড়িত নই সেটা আমার চোদ্দো পুরুষের ভাগ্য। লিপির ব্যাপারটা না বললেও চলত। মানে, লিপিকে আমি চোখ বুজে বিশ্বাস করি। তেমনটা না হলেও, বায়োলজিকালি আর কি… হেঁ হেঁ, বুঝতেই পারেছেন। যাকগে, এ তো আর সলমন খানের গাড়ি নয় যে কেউ স্টিয়ারিং হুইলের পেছনে ছিল না। তাইলে? জানা যাচ্ছে, এই সন্তানের জনক তাঁর কলেজ জীবনের এক পরিচিত, যার কথা তিনি গত দশ বছরে একবারও ভাবেননি। এছাড়াও সেই ভদ্রলোক আমাদের এই বন্ধুনির থেকে দৈর্ঘ্য-প্রস্থেও নাকি ছোট। (ভাগ্যিস, বাস্তব জীবনে আমার আর লিপির ডাইমেনশান প্রায় মেলে। এগুলো যে বাচ্চা-কাচ্চার ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হতে পারে জানতামই না।) তা তারপর কী হল? এবারেই আসল মোচড়। এঁর এ পক্ষের ছ বছরের কন্যার সঙ্গে ওই পক্ষের নিমোর কেমিস্ট্রি দেখে উনি আর্তনাদ করে স্বামীকে ডেকে উঠলেন, “ওগো! আমার এবার কী হবে?” (এই জায়গাটা পড়ে আমার দারুণ রাগ হয়েছে। আমাদের নিমো মাঝে মাঝে তাস নিয়ে বসে বটে। এমনকী লিপি কেড়ে নিতে গেলে ইস্কাপনের বিবিকে নাছোড়বান্দা ভৌ-এর মতো দাঁতে কামড়ে বসে থাকে, কিন্তু এর বাইরে নারী জাতির প্রতি তার তেমন অনুরাগ দেখা যায়নি।) যাই হোক, আন্দাজ করলাম, এরপর তাঁর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। (ভাগ্যিস! নাহলে প্যাটার্ন অনুযায়ী কেউ একজন খুন হত।) মেসেজটা বেশ কয়েকবার পড়ে নিশ্চিন্ত হয়েছি, এই কথাগুলোই তিনি লিখতে চেয়েছেন। তবে শেষে যেটা লিখেছেন, সেটা দারুণ ইয়ে। জানিয়েছেন, নিমোর ছবি দেখেই অবচেতনে এমন সব স্বপ্ন এসেছে। নিমোর পুরো শারুক্ষান কেস এখন। কদিন আগে পর্যন্তও কারা যেন দাবি করতেন শাহ রুখ তাঁদের সন্তান। ফেসবুকে তো আজকাল লেখালেখি-ছবিছাবার মালিকানা নিয়ে কথায় কথায় হাতাহাতি হয়ে যাচ্ছে। তাই ভাবছি, এই বেলা একটা ডি এন এ সার্টিফিকেট রেডি করে রাখব।

0

No Comments Yet.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *