শুরুর কবিতা

শেষবার যখন বাড়ি ফিরেছিলাম, দুপুর সাড়ে বারোটায় ফ্লাইট ছিল বোধ হয়। আমি গিয়ে হাজির হয়েছিলাম সকাল সাড়ে সাতটায়। কারণ বস ছুটি দেয়নি, নিমোর সঙ্গে দেখা করব বলায়, ওয়ার্ক ফ্রম হোমে রাজি হয়েছিল। তাই বাড়ি যাওয়ার দিনও ওয়ার্ক ফ্রম এয়ারপোর্ট।

যাই হোক, সিকিউরিটি চেকের পর একটা নির্জন জায়গা দেখে ল্যাপটপ খুলে গুছিয়ে বসলাম মেল-টেল চেক করতে। একটা মেল অর্ধেকও লিখিনি, পেটের মধ্যে থেকে চোঁ-কুঁই ইত্যাদি আওয়াজ আসতে শুরু করল। অগত্যা সব গুটিয়ে রুজির বন্দোবস্ত আবার পিঠে তুলে রোটির সন্ধানে রওনা হলাম। দক্ষিণী একটা ফুডকোর্টে গিয়ে হাবিজাবি কিছু একটা নিয়ে বসেছি। পাশের টেবিলে এসে বসল এক প্রেমযুগল। ছেলেটি দক্ষিণের আর মেয়েটা বাঙালি। ফোনে হইহই করে কাউকে জানাচ্ছিল তাদের ফ্লাইটের খবরাখবর।
আমার প্রাতরাশ যখন মাঝপথে, মেয়েটি তার পোহা শেষ করে একটা বড় ঢেঁকুর তুলল। এদিক ওদিক তাকিয়ে ছেলেটাকে জিজ্ঞাসা করল — “মে আই?” হাত বাড়িয়ে তার প্লেট থেকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের একটা টুকরো তুলে নিল। মিনিটখানেক মনোযোগ দিয়ে চিবোতে চিবোতে ছেলেটার দিকে তাকাল একবার — “উড ইউ লাইক টু শেয়ার ইয়োর ব্রেড উইথ মি?” ছেলেটা একহাত দিয়ে তার প্লেটের সামনে একটা প্রাচীর তৈরির চেষ্টা করল — “আই জাস্ট ডিড।” মেয়েটা সেই হাতে একটা চাঁটি মেরে ছদ্মরাগে বলল — “ডাম্বো।” তারপর একটু লজ্জা পাওয়া মুখে গলা নামিয়ে বলল — “ইউ নো… ফরএভার।” আমি এতক্ষণ আড়চোখে সব দেখছিলাম, এবার ছেলেটির মুখের দিকে সরাসরি তাকালাম। বুঝলাম, এসব দৃশ্য সিনেমার পর্দায় দেখতেই অভ্যস্ত সে।

রবিঠাকুর বলেছিলেন, দাম্পত্য একটা আর্ট। এ মেয়ে ‘শেষের কবিতা’ পড়েছে কিনা জানি না। তবে আমার জায়গা ছেড়ে উঠতে উঠতে প্রার্থনা করলাম, এ ললনাটি যেন এমন হুল্লোড়ে ফিল্মি রোমান্টিকই থাকে। অন্তত একজন বাঙালি রবিঠাকুরের অন্তত একটা কথা সত্যি করে দেখাক জীবনে।

1

No Comments Yet.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *