হায়দ্রাবাদী বনাম হিটলার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমার খুব প্রিয় একটা বিষয়। সে সম্পর্কিত বই বা ছবি পেলেই পড়ি, দেখি। তা গত পরশু এক হায়দ্রাবাদী আর এক মালায়ালির সঙ্গে গেছিলাম মাসকটের ইন্ডিয়ান স্পাইস রেস্তোয়াঁয়। শুরুতে পাঁপড় দিয়ে যাবার পর হায়দ্রাবাদী ছেলেটি মালায়ালিকে বলল, “চেখে দ্যাখো তো বিষ আছে কিনা?” আমি তখন মুর্শিদাবাদে দেখা সেই থালার কথা বললাম, যাতে কিনা বিষাক্ত খাবার দিলে থালা ফেটে যেত। তবে সেসব ছিল নবাবজাদাদের ব্যাপার। একটা থালা গেলে বাপ আরেকটা দেবে। কিন্তু পরে মানুষ গরিব হয়ে গেল। একটা থালাতেই বছরের পর বছর খেতে হত। তাই বিষ-পরীক্ষক রাখা শুরু হল (যদিও বিষ-পরীক্ষক বা খাদ্য চাখিয়েদের ইতিহাস নবাবদের থেকেও অনেক প্রাচীন)। ভেবে দ্যাখো, কী জীবন ছিল তাদের। কে কখন বিষ দিয়ে চলে গেল। আর তুমি খেয়ে মরলে। অবশ্য মালায়ালি ছেলেটা ডেভেলপার, ওরও কাজ অনেকটা একই রকম। যাক গে, কথায় কথায় এল হিটলারের খানা চাখিয়েদের কথা। বছরখানেক আগেই এমন এক মহিলার আত্মকথন পড়েছিলাম। খানা চাখিয়ে থেকে এল হিটলারের ওপর হওয়া প্রাণঘাতী হামলার কথা। প্রত্যেকবারই কোনও না কোনও ভাবে ভদ্রলোক বেঁচে গেছেন আর বিশ্বাস করেছেন তিনি অবধ্য। বিশেষ করে শেষ যে হামলাটা হয়েছিল, অপারেশন ভ্যালকাইরি নামে খ্যাত, সেটার গল্প একেবারে ক্রাইম থ্রিলারের মতো। এরপর এল হিটলারের অ্যাটম বোমার প্রসঙ্গ। নারায়ণ সান্যালের ‘বিশ্বাসঘাতক’-এর গল্প শোনালাম। শেষে হায়দ্রাবাদী মুখ খুলল, “মানে? রাশিয়ার হাতে এখন অ্যাটম বম্ব আছে?” আমি বললাম, “সে তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই আছে।” এবার মালায়ালি বলল, “ভারতেরও আছে।” হায়দ্রাবাদী উৎফুল্ল হয়ে উঠল, “যাক।” আমি বললাম, “এবং পাকিস্তানেরও আছে।” সে মুষড়ে পড়ল, “যদি এক-আধখানা ভারতে ফেলে যায়?” বেচারার মুখ দেখে মায়া হল। তাই বললাম, “আসলে আমরা মজা করছিলাম। হিরোশিমা-নাগাসাকির পর আমেরিকা সব ফর্মুলা পুড়িয়ে দিয়েছিল। এখন আর কারোর কাছেই সেসব নেই।” হায়দ্রাবাদী একগাল হেসে বলল, “তাই তো ভাবছিলাম। নাহলে কার্গিল যুদ্ধে দু-তিনটে বোমা ফেললেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত।” মালায়ালি প্রতিবাদ জানাতে মুখ খুলেছিল, তাকে ইশারায় থামিয়ে দিলাম। আমাদের পরিচিত একটা মানুষ অন্তত পারমাণবিক বোমা-মুক্ত পৃথিবীতে বাস করুক।

0

No Comments Yet.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *